টেক্সটাইল শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকট নিরসন এবং ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের জন্য নিরাপত্তা জামানত ও বাল্ক গ্রাহক শ্রেণীর জন্য লিমিট পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বরাবর পাঠানো পৃথক দুটি চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছে টেক্সটাইল শিল্প খাতের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে গতকাল পাঠানো এক চিঠিতে পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল সময়কালে তিতাস গ্যাস কর্তৃক শিল্প খাতে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ করা হয়েছে। বিটিএমএর মতে, শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমানোর পরিবর্তে ১২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি করা হলে শিল্প-কারখানাগুলোর ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতো। গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মিলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমের ক্রমাবনতি ঘটবে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মিল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় তিতাস গ্যাস কর্তৃক শিল্প খাতে প্রাপ্যতার ভিত্তিতে যৌক্তিক অনুপাতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে বিটিএমএ।
এর আগে ২৫ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অপর এক চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের টেক্সটাইল খাতে বৃহদাকার স্পিনিং, উইভিং ও প্রসেসিং মিলগুলো মূলত ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়, যেখানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় গ্যাস।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গ্রাহকের জন্য ঘণ্টাপ্রতি লোড ও প্রযোজ্য চালনাধাঁচ অনুসারে মাসিক অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে দুই মাসের সমপরিমাণ বিল জামানত হিসেবে প্রদান করতে হয়। অন্যদিকে নিরাপত্তা জামানতের ৫০ শতাংশ নগদ এবং ৫০ শতাংশ ব্যাংক গ্যারান্টি বা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে জমা প্রদানের বিধান রয়েছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক আদেশ অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত এক পরিপত্র অনুযায়ী, ১০ মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি থেকে অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করার বিধান রয়েছে, যার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল।
এমন পরিস্থিতিতে বিটিএমএর দাবি, ক্যাপটিভ গ্যাস সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে এক মাসের সমপরিমাণ বিল জামানত হিসেবে প্রদান এবং জামানতের শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে জমা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ।
অন্যদিকে বাল্ক গ্রাহক শ্রেণীর জন্য লিমিট ১০ মেগাওয়াটের স্থলে ২০ মেগাওয়াট পুনর্নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কোম্পানি থেকে অনাপত্তিপত্র নেয়ার বিষয়ে পরিপত্র জারির দাবি জানানো হয়েছে।